সৌদি আরবের কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম Ninja ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক অভাবনীয় মাইলফলক অর্জন করেছে। প্রি-আইপিও ফান্ডিং রাউন্ডে ২৫৪ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে কোম্পানি সরাসরি ইউনিকর্ন ক্লাবে প্রবেশ করেছে। এই রাউন্ডে কোম্পানির ভ্যালুয়েশন দাঁড়িয়েছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে। Riyad Capital-এর Riyad Pre-IPO Opportunities Fund-এর নেতৃত্বে এই ফান্ডিংয়ে vii Ventures, Altia Investment, Tamasuk Al Rajhi সহ আরও কয়েকটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ইনভেস্টর অংশ নিয়েছে। Forbes Middle East-এর ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইস্যুতে প্রকাশিত “Top 5 Most Funded Startups In MENA In 2025” লিস্টে Ninja প্রথম স্থান অধিকার করেছে। পুরো MENA অঞ্চলে ২০২৫ সালে স্টার্টআপ ফান্ডিং মোট ৩.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে — যা আগের বছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি। Ninja-এর এই সাফল্য শুধু কোম্পানির জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের ফিনটেক ও ই-কমার্স মিশ্রিত সেক্টরের জন্যও একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
Ninja ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা Saud Alqahtani, Canberk Donmez এবং Ibrahim Aljassim-এর নেতৃত্বে কোম্পানি শুরু থেকেই একটি সুপার অ্যাপ মডেল তৈরি করেছে। এর বিজনেস মডেল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনের সাথে পুরোপুরি মানানসই। Ninja মূলত একটি Quick-Commerce Super App হিসেবে কাজ করে, যেখানে গ্রাহকরা মাত্র ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে পণ্য পেয়ে যান। এতে রয়েছে গ্রোসারি, হাউজহোল্ড আইটেম, পার্সোনাল কেয়ার প্রোডাক্ট, ডিজিটাল ফার্মেসি এবং রেস্টুরেন্ট ডেলিভারি — সবকিছু একই অ্যাপে। ফিনটেক এলিমেন্ট যোগ হয়েছে ডিজিটাল ওয়ালেট, ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট এবং ক্যাশব্যাক অফারের মাধ্যমে। গ্রাহকরা অর্ডার করার সাথে সাথে ইন-অ্যাপ পেমেন্ট করতে পারেন, কোনো বাইরের পেমেন্ট গেটওয়ে ছাড়াই। এই মডেলের কারণে Ninja শুধু ডেলিভারি সার্ভিস নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ফিনটেক-ই-কমার্স হাইব্রিড প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।
রেভিনিউ মডেলও বেশ বৈচিত্র্যময়। Ninja মূলত ডেলিভারি ফি, কমিশন (মার্চেন্ট থেকে), ইন-অ্যাপ অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এবং প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন থেকে আয় করে। ডিজিটাল ফার্মেসি এবং গ্রোসারি ক্যাটাগরিতে উচ্চ মার্জিনের পণ্য বিক্রি করে অতিরিক্ত রেভিনিউ জেনারেট হয়। এছাড়া ফিনটেক অংশ থেকে ট্রানজেকশন ফি এবং ক্যাশব্যাক পার্টনারশিপ থেকেও আয় আসে। এই মাল্টি-সোর্স রেভিনিউ স্ট্রিমের কারণে কোম্পানির প্রফিট মার্জিন দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে Ninja সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অপারেশন চালাচ্ছে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার অর্ডার প্রসেস করছে। এই স্কেলিংয়ের ফলে মাত্র তিন বছরে কোম্পানি ১.৫ বিলিয়ন ডলার ভ্যালুয়েশনে পৌঁছে গেছে।
Forbes Middle East-এর রিপোর্ট অনুসারে, Ninja-এর এই সাফল্য MENA-এর কুইক-কমার্স সেক্টরকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর ডিজিটাল ইকোনমি লক্ষ্যের সাথে এটি পুরোপুরি মিলে যায়। গ্রাহকরা এখন এক অ্যাপ থেকেই দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ওষুধ এবং খাবার পেয়ে যাচ্ছেন — সবকিছু ফিনটেক-ইন্টিগ্রেটেড পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, Ninja শীঘ্রই আইপিও-র পথে হাঁটবে এবং MENA-এর ফিনটেক-ই-কমার্স মিশ্রিত সেক্টরে একটি আদর্শ মডেল হয়ে উঠবে। এই সাফল্য লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের জীবনকে আরও সহজ করে দিয়েছে। যারা এখনও ঐতিহ্যবাহী শপিং ও পেমেন্ট সিস্টেমে আটকে আছেন, তাদের জন্য Ninja একটি আধুনিক ও দ্রুত সমাধান।
সোর্স: Forbes Middle East English Edition – February 2026 (Top 5 Most Funded Startups In MENA In 2025)





